
বরিশাল ব্যুরো প্রধান :
হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা অংশ গায়ের জোরে বৈধ সম্পত্তি ভোগ দখলে মত্ত রয়েছে বলে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায় আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের মধ্যে কুড়িয়ানা গ্রামের সিকদার বাড়ীতে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জামির বিরোধ চলে আসছিল। নিখিল শিকদারের বৈধ সম্পত্তির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে দুলাল সিকদার ও পংকজ সিকদার গংদের। অভিযোগ উঠেছে এ চক্রের সদস্যরা রাষ্ট্রের আইন কানুন মানতে নারাজ। ভুক্তভোগী পরিবারের নিখিল সিকদার গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমাদের সম্পত্তির জে এল নম্বর ২৩,এস এ খতিয়ান নম্বর ১৩৫৬ ও ১৩৫৭ দাগে মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৮০ শতাংশ সম্পত্তি। বিগত সময়ে সিকদার পরিবারের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে দারুণ আন্তরিক ছিলেন এলাকার বহু শীর্ষ নেতৃবৃন্দুরা। প্রয়াত চেয়ারম্যান বাবু শেখর সিকদার নিখিল সিকদারের বৈধ সম্পত্তির অধিকার ফিরিয়ে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন দুলাল সিকদার ও পংকজ সিকদার গংদের সাথে। অথচ বেয়াদব ও উশৃংখল স্বভাবের এ চক্রের সদস্যরা সঠিক দায়িত্ব মানতে নারাজ। পরবর্তী সময়ে আবারও নষ্ট প্রকৃতির এ চক্রের সাথে আলাপ চারিতায় বসেন সাবেক উপজেলা ছাত্র লীগের রণী দত্ত ও বর্তমান চেয়ারম্যান শ্রী মিঠুন হালদার। কিন্তু এখানেও হার মানেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা।শান্তির পথে আনতে সক্ষম হয়নি।
এদিকে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর পরই দুলাল সিকদার ও পংকজ সিকদার গংরা সুকৌশলে বিএনপিরর একাংশের সাথে দহরমমহরম রাখতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের পতন হওয়ার পর পরই প্রতিটি উপজেলায় বিএনপির একটা অংশ সরাসরি অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। আর সেই কারনে দুলাল সিকদার ও পংকজ সিকদার গংরা সুকৌশলে নেছারাবাদ উপজেলায় আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের ধাপ্পাবাজ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে পিরিত শুরু করেন। দুলাল সিকদার, পংকজ সিকদার, মিলন সিকদার ও মিঠুন সিকদার গংরা ইউনিয়ন বিএনপির একাংশের বদৌলতে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠে। আওয়ামী লীগের সময়ে গায়ের জোরে নিখিল সিকদারের বৈধ সম্পত্তির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। উভয় পরিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও দুলাল সিকদার গংরা বিগত সময় থেকেই বেপরোয়া স্বভাবের। রাষ্ট্রের আইন কানুন মানতে নারাজ আর সেই কারনে নিখিল সিকদারেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বেআইনী ভাবে জায়গা জমি দখলে মত্ত ছিল। কুড়িয়ানা গ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ও নিন্দিত সদস্যদের মধ্যে দুলাল সিকদার, পংকজ সিকদার, মিলন সিকদার ও মিঠুন সিকদার গংরা। হীন স্বার্থের জন্য সবকিছু করতে কুন্ঠা বোধ করেননা। বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করারও দুঃসাহস দেখায় মিলন সিকদার ও মিঠুন সিকদার গংরা। প্রতিপক্ষ সুশিক্ষিত কিন্তু জনবল কম থাকায় দুষ্ট চক্রের সদস্য সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বেআইনী ভাবে মারধর ও হত্যারও হুমকি ধুমকি দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে।
এব্যাপারে আটঘর গ্রামের বেশীরভাগ লোকজন গণ মাধ্যম কর্মীদের বলেন, নিঃসন্দেহে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দুলাল সিকদার, পংকজ সিকদার, মিলন সিকদার ও মিঠুন সিকদার গংরা দারুণ বেপরোয়া স্বভাবের। গ্রামের বেশীরভাগ লোকজন ভালো চোখে দেখেন না। অথচ পুরো উল্টো স্বভাবের ভদ্রলোক নিখিল সিকদার ও তার পরিবারের সদস্যরা।শিক্ষিত পরিবারও বলা যায় নিঃসন্দেহে।
আর সেই সূত্র ধরেই দীর্ঘদিন ধরে জায়গা জামির বিরোধ নিয়ে দুলাল সিকদার, পংকজ সিকদার, মিলন সিকদার ও মিঠুন সিকদার গংরা গায়ের জোরে যা খুশি তাই করে যাচ্ছেন যত্রতত্র ভাবে। মনে হচ্ছে রাষ্ট্রের আইন কানুন বলতে কিছু নেই। বিচিত্র সেলুকাস আর বিচিত্র চিন্তা ভাবনা নিয়ে চলছে দুলাল সিকদার, পংকজ সিকদার, মিলন সিকদার ও মিঠুন সিকদার গংদের রামরাজত্ব। নিখিল সিকদার বার বার ন্যায় বিচার না পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছে বহু বার। একপর্যায়ে কোন ধরনের সুরাহা হয়নি বরং দুলাল সিকদার, পংকজ সিকদার, মিলন সিকদার ও মিঠুন সিকদার গংদের হুমকি ধুমকি ও জায়গার গাছ থেকে নারিকেল, সুপারি নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির একাংশের বদৌলতে আরও বেপরোয়া স্বভাবের হয়ে উঠছেন।নিখিল সিকদার দীর্ঘদিন ধৈর্য্য ধরে অবশেষে জেলা ম্যাজিষ্টেট কোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে দুলাল সিকদার সহ পংকজ সিকদার, মিলন সিকদার, মিঠুন সিকদার, মজু সিকদার, বন্ধনা সিকদার, সঞ্চিতা সিকদার গংদের বিরুদ্ধে। অথচ কোর্টে মামলা চলমান হলেও স্থানীয় বিএনপির একাংশ দিয়ে শালিসি বৈঠকে একতরফা রায় দেয় আমাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির স্থানীয় নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আমাদের উপর জুলুম করার দুঃসাহস দেখায় দুলাল সিকদার গংরা। আসলে দেশে কি আইনের শাসন আছে নাকি জোর যার মুল্লুক তারে পরিবত হয়েছে ।
এব্যাপারে কথা হয় বাদীপক্ষের নিখিল সিকদারের সঙ্গে। তিনি অকপটে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, আমি বরাবরই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সর্বশেষ মামলা চলমান হলেও বিএনপির নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থীর নেতৃত্বে কোর্টকে অবজ্ঞা করে বিএনপির নেতার ইচ্ছে মতন রায় দেয়। ফলে গত চলতি সপ্তাহে আমার বাগানের নারিকেল গাছ থেকে প্রায় ৩০০’ র বেশি ডাব ও নারিকেল পেরে নেয় দুলাল সিকদার গংরা। বিএনপির একটা অংশ সরাসরি অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল ঐ নেতার নির্দেশে। ঘটনার দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি ৯৯৯ কল দেওয়ার পর পরই আমর পরিবার রক্ষা পাই। বর্তমান সময়ে ডাব ও নারিকেল কুড়িয়ানা পুলিশ ফাঁড়িতে রয়েছে। আমি আবারও দুলাল সিকদার গংদের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় জিডি করি গত পরশু। এদিকে সরেজমিনে যাওয়া গণ মাধ্যম কর্মীরা বিবাদীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন।কিন্তু সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর পরই সুকৌশলে বাসা থেকে ছিটকে পড়েন।অবশ্য প্রতিবেশীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি সহ নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও সমগ্র বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গণমাধ্যম কর্মীদের সন্মানে বলেন, জায়গা জামি নিয়ে মামলা চলমান। তাই জোর জবরদস্তি করে নারিকেল ও ডাব নেওয়া ঠিক হয়নি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাক। প্রকৃত অপরাধীর কঠিন শাস্তি হোক।
Leave a Reply